ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচনী জোট আসছে

  • আপলোড সময় : ১৮-১১-২০২৪ ১১:০৯:৩০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-১১-২০২৪ ১১:০৯:৩০ অপরাহ্ন
জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচনী জোট আসছে
* ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, লেবার পার্টি ও বারোদলীয় জোটসহ কয়েকজন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতের নেতারা
* ইসলামী দলগুলোর জোটে হেফাজত ইসলামের সমর্থন থাকবে
* জামায়াতের জোট অন্য রাজনৈতিক দলকে সহায়তা করবে
* জামায়াত জোট নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ট্রেন চালু করে দিয়েছে সরকার। নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও শেষের পথে। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে রোববার সন্ধ্যা সাত টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস  নিজেও বলেছেন, সরকার নির্বাচনের ট্রেন চালু করে দিয়েছে, এ ট্রেন আর থামবে না। ইতিমধ্যে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘এক মঞ্চে’ আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু তাই নয়, প্রধান উপদেস্টার ভাষনের পর সেই ট্রেনে উঠতে রাজনৈতিক দলগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। তার মধ্যে রয়েছে ইসলামি দলগুলোও। এসব দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘এক মঞ্চ’ বা ‘প্ল্যাটফর্মে’ উঠবে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি ইসলামি দল এবং আলেমদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে। আলোচনা হয়েছে আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে। মূলত অর্ন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির দলীয় অবস্থান কী হবে-তার ওপর নির্ভর করছে এই ঐক্যের চূড়ান্ত রূপ।
এছাড়া ঐক্য গঠনে ইসলামী দলগুলো প্রাথমিকভাবে একমত হলেও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে জোটের নেতৃত্ব কে দেবে-জামায়াতে ইসলামী নাকি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঐক্য গড়ার আগে কয়েকটি দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর ধর্মীয় বিষয়ে কিছু লেখা বা বক্তব্য নিয়ে আলেমদের সঙ্গে যে বিরোধ, তার সমাধান করার কথা জানিয়েছেন। তা না হলে একটি বড় ইসলামি দলসহ কয়েকটি দল ঐক্যে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে টানা ১৫ বছর ৬ মাস রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর পালটে যায় দেশের রাজনীতির চিত্র। প্রায় ১৬ বছর পর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরেছে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী। এই মুহূর্তে দলটি রাজনৈতিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও সাংগঠনিকসহ নানা তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ‘ফেরারি’ অবস্থান থেকে হঠাৎ করে রাজনীতির সম্মুখ ভাগে আসা জামায়াতকে নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে অর্ন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ, সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। যদিও এখন আবারও দুই দলই নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে প্রায় অভিন্ন সুরে কথা বলছে। বিএনপি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায়। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তবে ইসলামপন্থি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ এখন মাঠে নেই। দলটির (আওয়ামী লীগ) সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিচারকাজ শেষ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সেজন্য বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। এমনটা হলে এবং মাওলানা মওদূদীর কিছু লেখা বা বক্তব্য নিয়ে আলেমদের বিরোধের সমাধান হলে ‘নির্বাচনি ঐক্য’ চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারে। দলগুলোর নেতারা এও বলছেন, জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। ইসলামী দলগুলো দলের ভেতরে ও বাইরে অন্য দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিবন্ধিত ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আলোচনাও করেছেন। ভোটের মাঠে ঐক্য গড়তে এসব দলের নেতারা মানসিকভাবে কাছাকাছি অবস্থানেও পৌঁছে গেছেন। তারা বলছেন, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা ও ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে তারা আগামী নির্বাচনে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৮টি। এর মধ্যে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল রয়েছে ১১টি জাকের পার্টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর যাদের নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। এর বিরুদ্ধে দলটি আপিল করলেও তা উচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই আবেদন পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত, যার সূত্র ধরে দলটি নিবন্ধন ফিরে পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আরও রয়েছে হেফাজতে ইসলাম, যারা অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও ভোটের মাঠে তাদের সমর্থন যথেষ্ঠই প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের বাইরেও বেশকিছু ইসলামি দল আছে। নিবন্ধন না থাকায় তারা নিজেদের প্রতীকে ভোট করতে না পারলেও তাদের সমর্থন নিয়ে অন্য দলগুলো লাভবান হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঐক্য গঠনের বিষয়ে আমাদের আগ্রহের কথা আগেই বলেছি, আমাদের আমিরও বলেছেন। এ নিয়ে ইসলামি দলগুলোর আগ্রহ বেড়েছে। জোট করতে গেলে কিছু মতপার্থক্য থাকে। এখন কোন দল কতটা উদার হবে, কতটা ছাড় দেবে; আলোচনা করে সবার পরামর্শের ভিত্তিতে এই ঐক্য গঠন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, পৌরসভা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও মসজিদ ও মাদরাসাকেন্দ্রিক যৌথ সভা ও কর্মিসভায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ইসলামী দলগুলো। তবে এসব বৈঠক এখনো চলছে অনানুষ্ঠানিকভাবে। নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আলোচনাও রয়েছে প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে। তবে অতীতের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে বেশির ভাগ দলই একমত পোষণ করছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক ও আধা-আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে তারা।
সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বেশকিছু দলের আলোচনা হয়েছে। এমন কয়েকটি দলের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলোকে একটি জোট বা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এর সঙ্গে। তিনি জানান, গত ১৬ নভেম্বর সমমনা ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও জোট করার বিষয় নিয়ে তাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলো মিলে একটি জোট হতে পারে। এই জোট প্রয়োজনে অন্য রাজনৈতিক দলকেও সহায়তা করবে। তবে সে দলকে অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে, গণতন্ত্রমনা হতে হবে। সেই দলকে জনগণেরর স্বার্থ রক্ষা ও ইসলামের আদর্শের অনুসারী থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং লেবার পার্টি ও বারো দলীয় জোটসহ বেশ কয়েকটি দল ও কয়েকজন ইসলামি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস বলেন, ইসলামি দলগুলো নিয়ে নির্বাচনি জোট নয়, একটি সমঝোতার চিন্তাভাবনা চলছে। এই সমঝোতা করার জন্য ঘরোয়াভাবে আলোচনা হচ্ছে। এই সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কথা হচ্ছে। অন্যান্য ইসলামি সমমনাদল গুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবসময় নির্বাচনমুখী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা নির্বাচনি চর্চা অব্যাহত রেখেছি। জোট বা সমঝোতা না হলে আমরা এককভাবে নির্বাচন করব। দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। একইসুরে কথা বলেছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা চলছে। নিবন্ধিতসহ সমমনা ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের প্রাথমিক আলোচনা চলছে। জোট হয়ে নির্বাচন করলে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়া হবে। তবে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে ভোট করেছিল বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট। এবারে নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, তার ওপর দলটির ভোটে অংশগ্রহণের ধরন ঠিক করা হবে বলে জানালেন মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। নির্বাচনি জোট নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কী পদ্ধতিতে হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মতো নির্বাচন হলে আমরা এককভাবে ৪০টি আসনে প্রার্থী দেবো।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্য বা এক প্ল্যাটফর্মে আসার প্রাথমিক আলোচনা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। মানসিকভাবে সবাই একমত। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রায় কাছাকাছি এসে গেছে। কথা হয় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী এর সঙ্গে। তিনি বলেন, হেফাজত ইসলামের ব্যানারে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে হেফাজত ইসলামের সঙ্গে যুক্ত কেউ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে হেফাজত ইসলামের পরিচয় দিতে পারবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামি সমমনা দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, এ তথ্য শুনেছি। দেশে যদি ইসলামি দলগুলোর ঐক্য হয় এবং ইসলামি সরকার ও শাসনব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে সেখানে হেফাজত ইসলাম সমর্থন জানাবে। তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে জোট গড়তে নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য নিরসনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট হচ্ছে, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সকল ইসলামি দল ও ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে একটি জোট করবেন এবং সম্মিলিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এই প্রত্যাশার আলোকেই জামায়াতে ইসলামী সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনা করছে। নিজেদের মধ্যে যে মতানৈক্যগুলো রয়েছে সেগুলো নিরসনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের আমীরের মতবিনিময় সভা হচ্ছে। এরই একটি পর্যায়ে গিয়ে হয়তো একটা জোট গঠিত হবে এবং সেই জোট জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করছি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স